OrdinaryITPostAd

হরলিক্স খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - হরলিক্স খাওয়ার নিয়ম

আপনি কি জানেন? সারা বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ হরলিক্স পান করছেন। কিন্তু এই হরলিক্সে সত্যিই কি কোন উপকারিতা রয়েছে? নাকি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন আমাদের বোকা বানাচ্ছে? তার সবকিছুই জানার জন্য এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণরূপে পড়তে হবে। এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
হরলিক্স_খাওয়ার_উপকারিতা_ও_অপকারিতা
আমাদের অনেকের একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে হরলিক্স খেলে শরীর অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। সেই সাথে শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধিতেও এটি অনেক বেশি কাজ করে থাকে। কিন্তু আসলেই কি তাই? এর জন্য আমাদের হরলিক্স কি এবং এটি কেন তৈরি করা হয়েছে সেই সম্পর্কে জানতে হবে।

এটি মূলত এক ধরনের মাল্টিগ্রেইন হেলথ ড্রিংক। এটি তৈরি করা হয় গম, বার্লি, দুধ, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের উপাদান দিয়ে। যেসব শিশুরা প্রাকৃতিক খাবার খেতে চায় না মূলত তাদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে এটি তৈরি করা হয়েছে। তাই বিজ্ঞাপনের প্ররোচনায় পড়ে নয় হরলিক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরই আপনার শিশুকে হরলিক্স খাওয়ান। আর এ বিষয়ে জানার জন্য এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

হরলিক্স খাওয়ার নিয়ম - বড়দের হরলিক্স খাওয়ার নিয়ম

হরলিক্স খুবই উপকারী একটি পানীয়। তবে এর যথাযথ উপকার তখনই পাওয়া যাবে যখন এটি সঠিক নিয়মে খাওয়া হবে। যে কোন সময়, যে কোন ভাবে এটি খেলে এর থেকে সঠিক উপকারিতা পাওয়া যায় না। এর সঠিক উপকারিতা পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়।

একজন শিশু বা প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও মহিলা যেই হোক না কেন সঠিক নিয়মে, সঠিক হরলিক্স না খেলে এর থেকে কখনোই সম্পূর্ণ উপকারিতা লাভ করা সম্ভব নয়। হরলিক্স কখনোই একজন মানুষের প্রধান খাবার উপাদান হতে পারে না। বরং এটিকে অন্য কোন খাবারের সাথে খেলে তা আমাদের শরীরে অতিরিক্ত পুষ্টি প্রদান করে থাকে।

তবে দিনে দুইবারের অধিক হরলিক্স খাওয়া উচিত নয়। সেই সাথে কখনোই শুধু হরলিক্স খালি মুখে খাওয়া উচিত নয়। ছোট এবং বড়দের ক্ষেত্রে হরলিক্স খাওয়ার যেসব নিয়ম রয়েছে সেগুলো হলো-
  • হরলিক্স কখনোই ঠান্ডা পানিতে গুলে খাওয়া যাবে না।
  • সর্বদা হরলিক্স দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এতে করে দুধের পুষ্টি উপাদান বৃদ্ধি পায়।
  • যদি দুধের সাথে সম্ভব না হয় তবে কুসুম গরম পানিতে হরলিক্স গুলে খাওয়া যেতে পারে। তবে কোন অবস্থাতে খালি মুখে হরলিক্স পাওয়া যাবে না।
  • যদি কোন সমস্যা না থাকে তবে হরলিক্স সকালের খাবারের সাথে, বিকেলে নাস্তার সাথে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে অবশ্যই এই তিন সময়ের যেকোনো দুটিতে হরলিক্স খেতে হবে। এর বেশি খাওয়া উচিত নয়।
উপরে উল্লেখিত নিয়মে হরলিক্স খেলে এর থেকে অনেক বেশি উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। এর জন্য প্রথমে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি অথবা দুধে দুই চামচ হরলিক্স ভালো হবে গুলে তারপর এটি খেতে হবে।

তবে এটিকে কখনোই প্রধান খাবার বানানো উচিত নয়। কেননা এতে যতই পুষ্টি উপাদান থাকুক না কেন তা শরীরের জন্য যথেষ্ট নয়। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি এটি গ্রহণ করলে তা শরীরের পুষ্টি চাহিদা যথাযথ পালন করে থাকে।

হরলিক্স খাওয়ার বয়স

হরলিক্স খাওয়ার নির্দিষ্ট কোন বয়সসীমা উল্লেখ নেই। তবে বয়সের উপর ভিত্তি করে হরলিক্সের ধরন পরিবর্তিত হয়। এই যেমন ধরুন ছোট বাচ্চাদের জন্য একরকম হরলিক্স, বড় বাচ্চাদের জন্য একরকম হরলিক্স, মহিলাদের জন্য এক রকম হরলিক্স। এমনকি মানুষ যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তাদের খাওয়ার জন্য আলাদা হরলিক্স রয়েছে।

সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর বয়সী বাচ্চারা জুনিয়র হরলিক্স স্টেজ ওয়ান সেবন করে থাকেন। মূলত এই বয়সী বাচ্চাদের জন্যই এই হরলিক্স তৈরি করা হয়েছে। যাদের বয়স ৪ থেকে ৬ বছর তাদের জন্য আলাদা এক ধরনের হলে যা জুনিয়র হরলিক্স স্টেজ টু নামে পরিচিত তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়াও ৬ বছরের অধিক বয়সী শিশুর জন্য হরলিক্স নিউট্রেশন নামের এক ধরনের হরলিক্স তৈরি করা হয়েছে। মূলত এই হরলিক্স ৬ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত খেতে পারেন। এই সবগুলো হরলিক্স বিভিন্ন ফ্লেভারের হয়ে থাকে। যেমন চকলেট ফ্লেভার, কেসার ফ্লেভার ইত্যাদি।

এছাড়াও আরো এক ধরনের হরলিক্স পাওয়া যায় যা ওমেন হরলিক্স নামে পরিচিত। যেই হরলিক্স শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত ত্রিশ উর্ধ্ব মহিলারা খেয়ে থাকেন। এতে অনেক ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান যা তাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে থাকে। এছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য রয়েছে মাদার্স হরলিক্স। যেটি তারা গর্ভাবস্থায় খেয়ে থাকেন।

হরলিক্স এর উপাদান

হরলিক্স এর প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। হরলিক্স একজন মানুষের শরীরের পুষ্টি চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করে থাকে। বিশেষ করে যেসব মানুষের খাবার খেয়ে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে না তাদের জন্য হরলিক্স অনেক বেশি উপকারী। তবে কখনোই হরলিক্স কে প্রধান খাবার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সর্বদা হরলিক্সকে অন্যান্য খাবারের সাথে গ্রহণ করা উচিত।

বিশেষ করে ছোট বাচ্চা ও বয়স্ক লোকদের হরলিক্স খাওয়ানো উচিত। কেননা তারা ঠিকমতো না খাওয়ার ফলে তাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় না। এতে করে তারা বিভিন্ন ধরনের রোগ বাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। হরলিক্স মূলত একজন মানুষের ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে থাকে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক হরলিক্সে কি কি উপাদান থাকে সে সম্পর্কে-
  • ভুট্টা
  • গম
  • ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  • ভিটামিন
  • গুড়া দুধ
  • চিনি
  • পাম তেল
  • লবণ
  • অ্যান্টি কেকিং এজেন্ট
  • ছোলা
  • কাজুবাদাম
  • ওটস
  • খাঁটি তাল মিছরি
  • ক্যালসিয়াম
  • ম্যাগনেসিয়াম
এছাড়াও এতে আরো অনেক ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে। এতসব পুষ্টি উপাদানের সমন্বয়ে হরলিক্স তৈরি করা হয় বলে এটি শরীরের ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় রোধ করে। বিশেষ করে এটি ভারের ক্ষয় রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হরলিক্স খাওয়ার উপকারিতা

বর্তমান সময়ে বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলের একটি পছন্দের খাবার হরলিক্স। আমাদের অনেকেরই ধারণা হরলিক্স খেলে বাচ্চা বা বয়স্ক লোক খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কিন্তু আমাদের এই ধারণা সঠিক নয়। হরলিক্সের যেসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয় সেখানে এটিকে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খাওয়ানোর কথা বলা হয়।

অর্থাৎ সুষম খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে হরলিক্স খাওয়ানোর কোথায় বলা হয়ে থাকে। যদি কখনো বাচ্চাকে সঠিক পরিমান সুষম খাবার দেওয়া না হয় তখন যেন হরলিক্স বাচ্চার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে। হরলিক্সে যেসব উপাদান বিদ্যমান রয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি খাওয়ার উপকারিতা গুলো হলো-

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ হরলিক্সের বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান রয়েছে। এতে ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি, আয়রন, জিং সহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।

শারীরিক বৃদ্ধিতেঃ হরলিক্সে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম, আয়রন এর মত খনিজ উপাদান, উন্নত মানের প্রোটিন বিদ্যমান থাকার কারণে এটি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে কাজ করে থাকে।

মস্তিষ্কের উন্নতি সাধনেঃ হরলিক্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো এটি মস্তিষ্কের উন্নতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। হরলিক্সে বিদ্যমান ভিটামিন বি-১২ মস্তিষ্কের স্নায়ুকে শক্তিশালী করে। এছাড়াও হরলিক্সে বিদ্যমান ডিএইচএ (DHA) ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কোলিন মস্তিষ্কের কোষ গঠনে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নতিতে কাজ করে থাকে।

হাড় ও দাঁত মজবুত করতেঃ হরলিক্স হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে। কেননা হরলিক্সে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি বিদ্যমান রয়েছে। এইসব ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও এটি দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

পুষ্টি চাহিদা পূরণেঃ হরলিক্স সাধারণত গম, বার্লি, দুধ, চিনি সহ বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণে তৈরি করা হয়। যার ফলে এটি ভিটামিন, খনিজ পদার্থ সহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এজন্য হরলিক্স আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে সাহায্য করে থাকে।

হজমশক্তি বৃদ্ধিতেঃ হরলিক্সে ফাইবার বিদ্যমান থাকার কারণে এটি হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে। এছাড়াও একটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

পেশী গঠনেঃ হরলিক্সে উন্নত মানের প্রোটিন বিদ্যমান থাকার কারণে এটি প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি গঠনে সাহায্য করে থাকে। সেই সাথে এটি পেশীর রক্ষণাবেক্ষণেও সাহায্য করে থাকে।

ভালো ঘুম হওয়াঃ আমাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা ভালো ঘুম হওয়ার জন্য নিয়মিত ঘুমানোর পূর্বে এক গ্লাস দুধের সাথে হরলিক্স খেয়ে থাকে। যদিও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় তবুও এই পদ্ধতিটি বিশেষ প্রচলিত। সেই সাথে হরলিক্স স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

শক্তি বৃদ্ধিতেঃ হরলিক্সে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান আমাদের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। সেই সাথে এটি আমাদের শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

হরলিক্স কখন খেতে হয়

হরলিক্স খাওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। আপনি চাইলে এটি যেকোনো সময় খেতে পারেন। তবে সকালে কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে দুধের সাথে হরলিক্স খাওয়া সবচেয়ে ভালো। হরলিক্স আপনার শরীরের যতটুকু পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে থাকে তা আপনি শুধুমাত্র দুধ খাওয়ার মাধ্যমে পূরণ করতে পারবেন। তবে দুধের স্বাদকে আরো বাড়িয়ে তুলতে দুধের সাথে হরলিক্স মিশিয়ে খেতে পারেন।

আপনি যদি সকালের নাস্তার সময় হরলিক্স পান করে থাকেন তবে এটি আপনাকে সারাদিন এনার্জি দেবে। এছাড়াও আপনি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে এক গ্লাস হরলিক্স পান করে ঘুমাতে পারেন। এটি আপনাকে আরামের ঘুমের পাশাপাশি শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে। তবে হরলিক্স আপনি যেকোনো সময়ই খেতে পারেন। এটি আপনি যখনই খান না কেন তা আপনার উপকারে আসবে।

তবে অবশ্যই খালি পেটে হরলিক্স খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা খালি পেটে হরলিক্স খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হরলিক্স খেলে কি ওজন বাড়ে - হরলিক্স খেলে কি মোটা হয়

প্রত্যেক বাবা-মারই সন্তানকে নিয়ে একটি কমন চিন্তা থাকে আর তা হলো "শিশু ঠিকমতো বাড়ছে তো? শিশুর স্বাস্থ্য ঠিক আছে তো?" এর পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হরলিক্স খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে আসলেই হরলিক্স কি ওজন বাড়াতে সাহায্য করে? আসুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাক-

শিশুর ওজন বৃদ্ধির সাথে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। শিশু যদি নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করে থাকে এবং তা যদি তার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে তবে শিশু এমনিতেই স্বাস্থ্যবান হবে। এক্ষেত্রে তাকে হরলিক্স খাওয়ানোর কোন প্রয়োজন নেই। তবে যেসব শিশু খাবার খেতে চায় না তাদের পুষ্টি চাহিদার বিকল্প হিসেবে হরলিক্স কালো যেতে পারে।

কেননা এতে অতিরিক্ত চিনি সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকার কারণে তা শিশুর ওজন বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। তবে এটি সুষম খাদ্য না হওয়ার কারণে যেসব শিশু ঠিকমতো খাদ্য গ্রহণ করে তাদেরকে এটি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকায় উত্তম। কেননা একজন শিশুর জন্য হরলিক্সের তুলনায় সুষম খাদ্য অনেক বেশি উপকারী।

এছাড়াও কেউ যদি অতিরিক্ত পরিমাণ হরলিক্স খেয়ে থাকেন তবে এটি তার ওজন বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, যাদের বিপাকীয় ক্ষমতা কম তারা যদি হরলিক্স খেয়ে থাকেন তবে এটি তাদের ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে পরিমিত পরিমাণ হরলিক্স গ্রহণ ওজন বাড়ায় না বরং এটি শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে থাকে।

জুনিয়র হরলিক্স এর উপকারিতা

হরলিক্স সাধারণত বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে জুনিয়র হরলিক্স একটি। এটি সাধারণত দুই থেকে ছয় বছর বয়সী বাচ্চাদের খাওয়ানো হয়। এই হরলিক্স বি,ভিন্ন স্বাদের হয়ে থাকে যেমন চকলেট, মিল্ক, ব্ল্যাক ইত্যাদি। এসব হরলিক্স শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও সাহায্য করে।

মূলত জুনিয়র হরলিক্স ঐসব বাচ্চাদের খাওয়ানো হয় যেসব বাচ্চারা ঠিকমতো খাবার খায় না। ফলে তাদের শরীরে পুষ্টি চাহিদার ঘাটতি দেখা যায়। জুনিয়র হরলিক্স খাওয়ার ফলে বাচ্চাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা কিছুটা পূরণ হয়ে যায়। নিচে জুনিয়র হরলিক্স এর উপকারিতা তুলে ধরা হলো-
  • জুনিয়র হরলিক্সে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, জিংক, আয়রন সহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে। এইসব ভিটামিন ও খনিজ লবণ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে।
  • জুনিয়র হরলিক্সে বিদ্যমান আয়রন, কোলিন, ভিটামিন বি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। সেই সাথে এটি মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • জুনিয়র হরলিক্সে পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকার কারণে এটি শিশুর শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে থাকে।
  • জুনিয়র হরলিক্সে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় এটি শিশুর পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
  • জুনিয়র হরলিক্সে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকায় এটি এনার্জি বুস্টার হিসাবে কাজ করে থাকে। তাই সকালে এক গ্লাস হরলিক্স খেলে তা শিশুকে সারাদিন চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
  • জুনিয়র হরলিক্সে সামান্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ডি বিদ্যমান থাকায় শিশুর হাড়কে শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে থাকে। সেই সাথে এটি শিশুর হাড়ের বিকাশে সাহায্য করে থাকে।
যেসব শিশুরা খেতে চায় না তাদের শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে জুনিয়র হরলিক্স একটি দারুন সমাধান হতে পারে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে এটি কখনোই সুষম খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কেননা এর পুষ্টিগুণ ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়।

তাই যেসব শিশুরা ঠিক মত খাবার খায় তাদেরকে খাবারের পরিবর্তে জুনিয়র হরলিক্স দেওয়া উচিত নয়। তবে যেসব শিশুরা খেতে চায় না তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য জুনিয়র হরলিক্স সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

ওমেন হরলিক্স এর উপকারিতা

ওমেন হরলিক্স সাধারণত ৩০ ঊর্ধ্ব মহিলাদের কথা চিন্তা করে তৈরি করা হয়েছে। এর সময় মহিলাদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ধরনের অবনতি দেখা দেয়। ওমান হরলিক্স এর উপকারিতা নিচে দেয়া হলো-
  • মহিলাদের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। সেই সাথে এটি হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও এটি অস্টিওপোরোসিসের মতো বিভিন্ন ধরনের হাড়ের রোগের ঝুঁকি কমায়।
  • এটি মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে।
  • এটি শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • এতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকার কারণে এটি এনার্জি বুস্টার হিসাবে কাজ করে। তাই এটি কার ফলে মহিলারা সারাদিন কাজ করার এনার্জি পায়।
  • এতে ফাইবার বিদ্যমান থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

কোন হরলিক্স ভালো - বাচ্চাদের জন্য কোন হরলিক্স ভালো

বাজারে বিভিন্ন বয়সের জন্য বিভিন্ন ধরনের হরলিক্স পাওয়া যায়। যেমন বাচ্চাদের জন্য জুনিয়র হরলিক্স-১,২, মহিলাদের জন্য ওমেন হরলিক্স, গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মাদার হরলিক্স, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হরলিক্স। এই সবগুলো হরলিক্সই আপনার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে সঠিক বয়সের জন্য সঠিক হরলিক্স নির্বাচন করা জরুরী।

এই ধরুন আপনি বাচ্চাদের জন্য হরলিক্স কিনতে চাচ্ছেন। তাহলে অবশ্যই আপনাকে বাচ্চার বয়স অনুযায়ী তাকে জুনিয়র হরলিক্স-১, জুনিয়র হরলিক্স-২, জুনিয়র হরলিক্স-৩ দিতে পারেন। তাকে বড়দের হরলিক্স খাইয়ে যেমন কোন উপকার পাবেন না তেমনি বড়দেরকে জুনিয়র হরলিক্স খাওয়ালে কোন লাভ হবে না। এজন্য হরলিক্স থেকে উপকৃত হতে চাইলে সঠিক বয়সের জন্য সঠিক হরলিক্স নির্বাচন করা জরুরী।

হরলিক্স এর দাম

হরলিক্স এর দাম এর ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। এক এক ধরনের হরলিক্স এর দাম এক এক রকম হয়ে থাকে। নিচে বিভিন্ন ধরনের হরলিক্স এর দাম উল্লেখ করা হলো-
  • জুনিয়র হরলিক্স-১ এর ৩০০ গ্রাম প্যাকেটের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং ৫০০ গ্রামের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
  • জুনিয়র হরলিক্স-২ এর ৩০০ গ্রাম প্যাকেটের মূল্য ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম প্যাকেটের মূল্য ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
  • ওমেন্স প্লাস হরলিক্স এর ৪০০ গ্রামের মূল্য ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
  • বড়দের হরলিক্সের ২৫০ গ্রাম প্যাকেটের মূল্য ২৪০ থেকে ২৭০ টাকা, ৪০০ গ্রাম প্যাকেটের মূল্য ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম প্যাকেটের মূল্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন ধরনের হরলিক্স পাওয়া যায়। যেমন হরলিক্স চকলেট ফ্লেভার, লাইট হরলিক্স, হরলিক্স অরিজিনাল ইত্যাদি। এদের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এদের দাম আলাদা আলাদা হতে পারে। হরলিক্স ক্রয় করার পূর্বে অবশ্যই এর মূল্য সঠিকভাবে যাচাই করে নিতে হবে। পাশাপাশি এটির মেয়াদ আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে।

লেখকের মন্তব্য

হরলিক্সে যদিও পুষ্টি উৎপাদন বিদ্যমান রয়েছে তবুও আপনার শিশু যদি ঠিকমতো প্রাকৃতিক খাদ্য খেয়ে থাকে তবে তাকে হরলিক্স খাওয়ানো থেকে বিরত থাকো। কেননা তখন এটি তার রুচি কমিয়ে দিতে পারে। তবে যেসব শিশু ঠিকমতো খেতে চায় না তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য হরলিক্স খাওয়াতে পারেন।

প্রিয় বন্ধুগণ, আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গিয়েছেন। এখন আপনার কি করা উচিত তা হয়তো বুঝতে পেরেছেন। এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে এমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের জানাবেন। এই আর্টিকেল সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তবে এটি আপনার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি আপনার মূল্যবান মন্তব্যটি এখানে লিখুন। প্রতিটি মন্তব্য গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।

comment url